স্বাস্থ্য
গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে অনিয়ম দেখে স্বাস্থ্য মন্ত্রীর ক্ষোভ
গাইবান্ধা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে নানাবিধ অনিয়ম, দুর্নীতি, ওষুধ সংকট ও সার্বিক অব্যবস্থাপনার অভিযোগে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে হাসপাতালের নাজুক অবস্থা দেখে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। একইসাথে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ এবং গাইবান্ধায় ১০১ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি। আজ দুপুর কোনো প্রটোকল ছাড়াই তিনি হাসপাতালটিতে যান। এ সময় তিনি জরুরি বিভাগ, বিভিন্ন ওয়ার্ড ওষুধ ভাণ্ডার ঘুরে দেখেন। পরিদর্শনকালে রোগী ও তাদের স্বজনদের কাছ থেকে নার্সদের দায়িত্বে অবহেলা, প্রয়োজনীয় ওষুধ না পাওয়া এবং চিকিৎসা সেবায় দুর্ভোগের কথা শোনেন মন্ত্রী। পরিদর্শনকালে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিভিন্ন রোগী শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। রোগীদের অভিযোগ শোনার পর মন্ত্রী বলেন, "জনগণের সেবার জন্য এই হাসপাতাল। এখানে এমন অব্যবস্থাপনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।" পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় মন্ত্রী বলেন, গাইবান্ধার চিকিৎসা সেবা আরও সহজ করতে সরকার উপজেলা পর্যায়ে ১০১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে। এতে সদর হাসপাতালের ওপর চাপ কমবে।" এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা, পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন মাননীয় এমপি আব্দুল করিম, সিভিল সার্জন ডা. রফিকুজ্জামান সহ স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। মন্ত্রীর এই আকস্মিক পরিদর্শন ও কঠোর নির্দেশে রোগী ও স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে।
রংপুর মেডিকেলে বাড়ছে আইসিইউ, বসছে সিসিটিভি: ত্রাণমন্ত্রী
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আগামী দুই মাসের মধ্যে আরও ১০টি আইসিইউ শয্যা যুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে হাসপাতালজুড়ে এক মাসের মধ্যে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং এক সপ্তাহের মধ্যে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন আলোর ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছরে স্বাস্থ্য খাতসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন খাতে অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও অবহেলা ছিল। বর্তমান সরকার স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও জনবল সংকট নিরসনে কাজ করছে। অনেক হাসপাতালে অবকাঠামো থাকলেও জনবল না থাকায় সেবা ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, রংপুর মেডিকেলে রোগীর স্বজনদের থাকার ব্যবস্থা, অ্যানেস্থেশিয়ার সংকট নিরসন এবং অপারেশনের জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি জলাবদ্ধতা দূর, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও হাসপাতালের নিরাপত্তা জোরদারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। জনবল সংকট মোকাবিলায় স্থানীয় ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় আরও ৫০ জন আউটসোর্সিং কর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। এ ছাড়া কর্মচারীদের জন্য নির্ধারিত পোশাক ও পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করা হবে এবং দালালচক্রের দৌরাত্ম্য কমাতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। লাশ পরিবহনে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে হাসপাতালভিত্তিক তালিকাভুক্তি, নির্ধারিত ভাড়া এবং চালানের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা চালুর কথাও জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, নির্মাণাধীন ৪৬০ শয্যার ক্যানসার, কিডনি ও হৃদরোগ বিশেষায়িত ভবনের কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভবনটি চালু হলে উত্তরাঞ্চলের মানুষের চিকিৎসাসেবা আরও সম্প্রসারিত হবে। হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে বিকেলে রংপুর নগরীর কুকরুল এলাকায় জিয়া খাল পরিদর্শনকালে আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, খাল খননে অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে খালের দুই পাশের গাছের পরিচর্যার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি জিয়া খাল পুনঃখনন করে এটিকে নগরবাসীর চলাচল ও বিনোদনের উপযোগী করে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। পরিদর্শন ও আলোচনা সভায় রংপুর বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু, হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান, রংপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আনোয়ার হোসেন, রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রেজেকা সুলতানা ফেন্সি, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
স্বাস্থ্যসেবার সংকট নিরসনের ৫ দফা দাবি নিয়ে বান্দরবানে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান
বান্দরবান সদর হাসপাতালের দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা দূরীকরণ, ২৫০ শয্যার হাসপাতাল পূর্ণাঙ্গভাবে চালু, আইসিইউ ও ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনসহ ৫ দফা দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি পালন করেছে ‘বান্দরবান সচেতন ছাত্র সমাজ’। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের জন্য উন্নত ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। কিন্তু বান্দরবান সদর হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধার চরম সংকট দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক হাম পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও তালবাহানার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়। বক্তারা অভিযোগ করেন, হাসপাতালে আইসিইউ না থাকা, সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের সংকট এবং হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসায় অব্যবস্থাপনার কারণে সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে বলেও তারা সতর্ক করেন। মানববন্ধন শেষে আন্দোলনকারীরা তাদের দাবির সমর্থনে স্থানীয় সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী, পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান থানজামা লুসাই এবং জেলা প্রশাসকের কাছে পৃথক স্মারকলিপি প্রদান করেন। ছাত্রসমাজের ৫ দফা দাবি গুলো হলো 1. বান্দরবান ২৫০ শয্যার হাসপাতাল দ্রুত পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করতে হবে। 2. সদর হাসপাতালে অবিলম্বে আইসিইউ ও ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন করতে হবে। 3. আধুনিক সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিশ্চিত করতে হবে। 4. হাম প্রতিরোধ, চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনায় সব ধরনের অবহেলার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। 5. পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় জনবল, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম ও পর্যাপ্ত ওষুধের সংস্থান নিশ্চিত করে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে। মানববন্ধনে বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যৌক্তিক দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আরও বৃহত্তর ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
মোরেলগঞ্জে ক্লিনিক সিলগালার পর এবার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বরখাস্ত
ব্যক্তিগত ক্লিনিক সিলগালার পর এবার অনিয়ম, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা, পরিত্যক্ত ভবন, এমনকি শৌচাগারে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রাখার দায়ে বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কামাল হোসেন মুফতিকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ শৃঙ্খলা-২ শাখার সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ বরখাস্তাদেশ দেওয়া হয়। রোববার (২৬ জুলাই) স্বাক্ষরিত ওই চিঠি সোমবার (২৭ জুলাই) বিকালে বাগেরহাট স্বাস্থ্য বিভাগে পৌঁছায়। ওই চিঠিতে বলা হয়- ডা. কামাল হোসেন মুফতি মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত আছেন। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী পরিদর্শনকালে অনিয়ম, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা, পরিত্যক্ত ভবন, এমনকি শৌচাগারে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পাওয়া যায়; যা চিকিৎসাসেবার সুনাম নষ্ট করছে। সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এর ৩৯(১) ধারা অনুযায়ী- কোনো কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যধারা প্রস্তাব বা বিভাগীয় কার্যধারা রুজু করা হলে, সরকার বা নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ অভিযোগের মাত্রা ও প্রকৃতি, অভিযুক্ত কর্মচারীকে তাহার দায়িত্ব হতে বিরত রাখার আবশ্যকতা, তদন্তকার্যে প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা- ইত্যাদি বিবেচনা করে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করতে পারবে। সে অনুযায়ী, ডা. কামাল হোসেন মুফতিকে সাময়িক বরখাস্তের প্রজ্ঞাপনের তারিখ হতে চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো। সাময়িক বরখাস্ত থাকাকালে তিনি বিধি অনুযায়ী খোরপোশ ভাতা প্রাপ্য হবেন। বাগেরহাটের সিভিল সার্জন আ স ম মাহবুবুর রহমান বলেন, কামাল হোসেন মুফতিকে সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি শুনেছি। আমরা চিঠি পেয়েছি। ওই চিঠির আদেশ ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উল্লেখ, গত শনিবার বেলা ১১টার দিকে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আকস্মিক পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। দুই ঘণ্টাব্যাপী পরিদর্শনে মন্ত্রী হাসপাতালে নানা অনিয়ম দেখতে পান। হাসপাতালের একটি পরিত্যক্ত ভবনের কক্ষ খুলে চক্ষু চরকগাছ হয় মন্ত্রী ও সরকারি আমলাদের। পরিত্যক্ত ওই ভবনের বিভিন্ন কক্ষ ভর্তি সরকারি ঔষধ, স্যালাইন, সুই সিরিঞ্জ ও অন্যান্য চিকিৎসা সামগ্রী। এমনকি শৌচাগারেও স্যালাইন ও ওষুধের স্তূপ দেখতে পান মন্ত্রী। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি বিভাগীয় পরিচালককে মোবাইল ফোনে নির্দেশনা দিয়েছিলেন। এর প্রেক্ষিতে রোববার দুপুরে স্বাস্থ্য বিভাগের খুলনা বিভাগীয় পরিচালক ডা. শেখ মো. মোশাররফ হোসেন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা (স্বাস্থ্য) শফিউর রহমান ও বাগেরহাটের সিভিল সার্জন আ স ম মাহবুবুর রহমান হাসপাতাল পরিদর্শনে যান। ওই দিন সন্ধ্যার আগ মুহূর্তে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা কামাল হোসেন মুফতির পরিচালিত ব্যক্তিগত ক্লিনিক সিলগালা করে স্বাস্থ্য বিভাগ। হাসপাতালের দেয়ালের পাশেই ‘ফ্যামিলি হেলথ ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ নামের ওই ক্লিনিকটি তিনি পরিচালনা করছিলেন।
ঠাকুরগাঁওয়ে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল ৬শ শয্যায় উন্নীত করা হচ্ছে - মির্জা ফখরুল
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলদেশ সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, প্রথম ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হলো। আমরা প্রায় এক ঘন্টার বেশি সময় ধরে আলোচনা করেছি। হাসপতালের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে বিস্তারিত কথা হয়েছে। আপনাদের জন্য একটি সুখবর দিতে চাই, সেটি হলো, আমাদের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালটি এখন ৬শ শয্যায় রুপান্তর করা হবে। আমরা হয়তো আর কিছুদিনের মধ্যে ৬শ শয্যা হাসপাতালের জন্য চিকিৎসক, টেকনিশিয়ান, যন্ত্রপাতি, ঔষধ এবং প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগের প্রক্রিয়া চালুর ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণ করবো। তিনি সোমবার সন্ধ্যায় ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যার কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের এখানে কিছু সমস্যাও বিদ্যমান। সেগুলোর মধ্যে এখানে রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। ২৫০ শয্যা হাসপাতালে গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৬শ রোগী ভর্তি হয় ফলে এত বেশি রোগীকে সেবা দিতে হিমশিম খেতে হয়। এক্ষেত্রে আজও প্রায় ৬৩০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। অন্যদিকে বর্তমানে ৮৪ জন চিকিৎসকের বিপরীতে বর্তমানে ডাক্তার রয়েছেন মাত্র ৪৫ জন। ফলে এত বেশি সংখ্যক রোগীকে সেবা দেওয়াও কষ্টকর হয়ে পরে। এখানে প্রায় ৩৩ জন মেডিকেল অফিসার ঘাটতি রয়েছে। এখানে আরও একটি বড় সমস্যা হলো মেডিকেল বর্জ্য অপসারণ করা। এখানে এটি অপসারনের কোন মেশিন ছিলো না, আমি জিজ্ঞেস করেছি এটির দাম কত? হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে এটির দাম প্রায় ৮/৯ লাখ টাকার মতো; আমি বলেছি এই মেশিনটি আমি ২/১ দিনের মধ্যে ব্যবস্থা করে দিবো। হাসপাতালের বিভিন্ন জরুরী জিনিস প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের সবচেয়ে বেশি যে দরকার; সেটা হলো আপনাদের সকলের সহযোগিতা। এখানে আরও একটি সমস্যা হলো গরু-ছাগল ঘুরাঘুরি করে। এ কারনে আমরা ইতিমধ্যে ৩০ জন আনসার নিয়োগের পরিকল্পনা নিয়েছি। আমরা চেষ্টা করছি যাতে একটি আধুনিক হাসপাতাল হয়। আমাদের আইসিইউ নেই; প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি নেই, এমআরআই মেশিন নেই; এই জিনিসগুলো আদায় করার চেষ্টা করবো। আমরা এখানে খুব শীঘ্রই স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে নিয়ে আসতে চাই। মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কাজও খুব দ্রুত এগিয়ে চলেছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, পুলিশ সুপার মো: বেলাল হোসেন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো: পয়গাম আলী, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা: ফিরোজ জামান জুয়েল, সিভিল সার্জন ডা: মো: আব্দুর রহমানসহ অন্যান্য চিকিৎসক, হাসপাতাল ব্যবস্থাপনার কমিটির সদস্যবৃন্দ।
লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগং প্রগ্রেসিভ ওয়েস্ট’র উদ্যোগে ফ্রি চক্ষু শিবির ও মেডিক্যাল ক্যাম্প সম্পন্ন
‘যেখানে প্রয়োজন, সেখানেই লায়ন্স’ - এই আন্তর্জাতিক সেবা দর্শনকে ধারণ করে লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগং প্রগ্রেসিভ ওয়েস্ট-এর উদ্যোগে এবং লিও ক্লাব ও আবুরখীল গ্রামবাসীর যৌথ সহযোগিতায় ২৫ জুলাই’২৬ (শনিবার) রাউজানের আবুরখীল অমিতাভ উচ্চ বিদ্যালয়ে ফ্রি চক্ষু শিবির ও মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। মানবিক এই কার্যক্রমের সাথে পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও এলাকার সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর মাঝে বস্ত্র বিতরণ করা হয়। সকাল ১০টায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে এই মানবিক সেবা কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ক্লাব প্রতিষ্ঠাতা ও সিনিয়র গভর্নর এডভাইজর লায়ন আদর্শ কুমার কুমার বড়ুয়া পিএমজেএফ। এবারের ক্যাম্পে চক্ষু পরীক্ষার পাশাপাশি বিনামূল্যে চশমা বিতরণ,জেনারেল চিকিৎসাসেবা, চর্মরোগ ও শিশু চিকিৎসা, ডায়াবেটিস পরীক্ষা, ব্লাড গ্রুপ পরীক্ষা এবং গাইনি ডাক্তার সেবাসহ ছানি রোগীদের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অপারেশনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল এবং আয়োজনের অন্যতম অনুষঙ্গ ছিল পরিবেশ সুরক্ষায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও সুবিধাবঞ্চিত দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মাঝে বস্ত্র বিতরণ কর্মসূচি। অনুষ্ঠানে ক্লাব ট্রেজারার(ইলেক্ট)লায়ন রনি কুমার বড়ুয়ার পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লায়ন্স ডিস্ট্রিক্ট ৩১৫-বি৪, বাংলাদেশের জেলা গভর্নর লায়ন মো. কামরুজ্জামান লিটন এমজেএফ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগং প্রগ্রেসিভ ওয়েস্ট-এর প্রেসিডেন্ট লায়ন ছোটন বড়ুয়া এমজেএফ। আর্তমানবতার সেবায় ব্যতিক্রমী এই মেডিকেল ক্যাম্পটির অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লায়ন্স ইন্টারন্যাশনাল ডিস্ট্রিক্ট ৩১৫-বি৪’র দ্বিতীয় ভাইস ডিস্ট্রিক্ট গভর্নর লায়ন পারভীন মাহমুদ এফসিএ, পিএমজেএফ, ক্যাবিনেট সেক্রেটারি লায়ন বেলাল উদ্দিন চৌধুরী এবং জিইটি ডিস্ট্রিক্ট কো-অর্ডিনেটর লায়ন প্রফেসর ববি বড়ুয়া এমজেএফ। এছাড়াও আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লিও ক্লাব অ্যাডভাইজার লায়ন ধনঞ্জয় বড়ুয়া রুবেল,জোন চেয়ারপারসন লায়ন স্বরূপ বিকাশ বড়ুয়া বিতান এবং ২০২৬-২০২৭ লায়ন সেবাবর্ষে ক্লাবের নির্বাচিত সভাপতি (ইলেক্ট) লায়ন সুমল বড়ুয়া এমজেএফ। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন ক্লাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট লায়ন সুকান্ত বড়ুয়া বিপুল এমজেএফ, ক্লাব সেক্রেটারি (ইলেক্ট) লায়ন ঝুমি বড়ুয়া মুন্না, ক্লাব ট্রেজারার (ইলেক্ট) লায়ন রনি কুমার বড়ুয়া, ক্লাব মেম্বার লায়ন তমাল কান্তি বড়ুয়া, আবুরখীল অমিতাভ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উজ্জ্বল প্রসাদ দেবনাথ, প্রাক্তন বন্দর কর্মকর্তা সরোজ বড়ুয়া রুপু, বিশিষ্ট নাট্যজন,সংগঠক রূপায়ন বড়ুয়া কাজল, রাউজান প্রেসক্লাবের সাবেক দপ্তর সম্পাদক সাংবাদিক রতন বড়ুয়া, সামাজিক ব্যক্তিত্ব অরুণ বড়ুয়া,রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব দোলন বড়ুয়া,প্রাক্তন সমাজসেবা কর্মকর্তা অসীম কুমার বড়ুয়া মুকুল,সাংবাদিক নূর মোহাম্মদ, সাংবাদিক মিলন বৈদ্য,সাংবাদিক সঞ্জয় বড়ুয়া সহ উরকিরচর ইউনিয়ন ও গ্রামের বিভিন্ন স্তরের স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। লায়নিজমের পরিধি ও মানবিক ভাবমূর্তি বিশ্বের বৃহত্তম ধর্মনিরপেক্ষ সেবামূলক সংগঠন ‘লায়ন্স ক্লাব ইন্টারন্যাশনাল’ বিশ্বজুড়ে অন্ধত্ব নিবারণ, ক্ষুধা মুক্তি, ক্যানসার সচেতনতা, পরিবেশ রক্ষা এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের মতো দূরহ ক্ষেত্রে কাজ করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগাং প্রোগ্রেসিভ ওয়েস্ট বাংলাদেশে আর্তমানবতার সেবায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। দুর্যোগে সাড়া দেওয়া, সুবিধাবঞ্চিতদের উন্নত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা এবং সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে ক্লাবটি দীর্ঘ ৩৬ বছরের বেশি সময় ধরে এর মানবিক ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রেখেছে। রাউজানে অনুষ্ঠিত এই ক্যাম্পটি কেবল একটি চিকিৎসা শিবির নয়, বরং প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে সুস্থ সমাজ গড়ার এক নীরব লায়নিজমিক বিপ্লব। মেডিকেল ক্যাম্পটি আয়োজনের মাধ্যমে লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগং প্রগ্রেসিভ ওয়েস্ট পরিবার আবুরখীল গ্রামবাসী ও এলাকার সর্বস্তরের জনগণকে বিনামূল্যে এই চিকিৎসা সেবা প্রদান করে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বলে সেবাগ্রহণকারী সকলেই অভিমত ব্যক্ত করেন।
শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রী আকষ্মিক পরিদর্শন
বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টায় তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রবেশ করেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঢুকেই তিনি রোগীদের জন্য খাবার প্রস্তুতের রান্নাঘর পরিদর্শন করেন। সেখানে দুপুরের জন্য প্রস্তুত করা রোগীদের খাবার দেখেন এবং খাবারের স্বাদ গ্রহণ করেন। পরে তিনি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিভিন্ন ওয়ার্ড পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি রোগীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সমস্যার কথা শোনেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসকদের ডেকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। এ ছাড়া তিনি ডেঙ্গু আইসোলেশন সেন্টার, ডায়রিয়া কক্ষ ও হাম কক্ষ পরিদর্শন করেন। পরবর্তীতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রিয় গোপাল বিশ্বাসের কক্ষে গিয়ে হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যার কথা ধৈর্যসহকারে শোনেন। এ সময় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানান, হাসপাতালে চিকিৎসক ও নার্সের সংকট রয়েছে। এ ছাড়া ৩১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালটিতে মাত্র একজন ৫৯ বছর বয়সী পরিচ্ছন্নতাকর্মী কর্মরত আছেন। বিষয়টি তাৎক্ষণিক সমাধানের আশ্বাস দেন মন্ত্রী। এ সময় স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগের দাবিও জানান। পরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের কাছ থেকেও বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন। এছাড়া তিনি স্থানীয় বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও অন্যান্য সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ আনোয়ার হোসেন পঞ্চায়েত এবং সাবেক সভাপতি মতিয়ার রহমান খান। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাট-৪ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সোমনাথ দে, বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন, জেলা পুলিশ সুপার হাসান মো. নাছের রিকাবদার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) অর্থিতা হাওলাদার এবং শরণখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রোকেয়া খানম। এ সময় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানান, হাসপাতালে চিকিৎসক ও নার্সের সংকট রয়েছে। এ ছাড়া ৩১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালটিতে মাত্র একজন ৫৯ বছর বয়সী পরিচ্ছন্নতাকর্মী কর্মরত আছেন। বিষয়টি তাৎক্ষণিক সমাধানের আশ্বাস দেন মন্ত্রী। এ সময় স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগের দাবিও জানান। পরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের কাছ থেকেও বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন। এছাড়া তিনি স্থানীয় বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও অন্যান্য সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ আনোয়ার হোসেন পঞ্চায়েত এবং সাবেক সভাপতি মতিয়ার রহমান খান। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাট-৪ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সোমনাথ দে, বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন, জেলা পুলিশ সুপার হাসান মো. নাছের রিকাবদার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) অর্থিতা হাওলাদার এবং শরণখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রোকেয়া খানম। পরে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় মন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা মোতাবেক শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যায় উন্নীতকরণের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে হাসপাতালে চিকিৎসক, নার্স ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সংকটসহ রোগীদের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মোংলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে শিশুর মৃত্যু: স্বাস্থ্যসেবায় চরম উদ্বেগ
মোংলায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে দুই বছরের শিশু ইফা আক্তারের মৃত্যু হয়েছে, যা স্থানীয় স্বাস্থ্যঝুঁকির ভয়াবহতাকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। মোংলা পৌর শহরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সিগনাল টাওয়ার এলাকার বাসিন্দা শাকিল তালুকদারের দুই বছর বয়সী শিশুকন্যা ইফা আক্তার ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে। গত ১৮ জুলাই শনিবার দুপুরে প্রচণ্ড জ্বর ও ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে শিশুটিকে মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছিল, যেখানে প্রাথমিক পরীক্ষায় তার শরীরে ডেঙ্গুর উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া যায়। শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে একই দিন সন্ধ্যায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় রবিবার ভোরে শিশুটি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে। এই অকাল মৃত্যু স্থানীয় জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে এবং পৌর এলাকায় এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও মশক নিধনে যথাযথ পদক্ষেপের অভাবকে স্পষ্ট করে তুলেছে। মূলত, সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় এবং পরিস্থিতির ভয়াবহতা অনুধাবনে ব্যর্থতা এই মর্মান্তিক পরিণতির পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ এবং স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সিগনাল টাওয়ার এলাকাসহ মোংলার বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা ও নর্দমার পানি মশা বংশবৃদ্ধির প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। শিশু ইফার স্বজনদের দাবি, পৌর কর্তৃপক্ষের নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান না থাকায় এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার ত্রুটির কারণে ডেঙ্গুর প্রকোপ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন যে, মশক নিধন কার্যক্রম কেবল লোক দেখানো এবং তা নিয়মিত পরিচালনা করা হয় না। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসা অন্যান্য রোগীদের অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালে পর্যাপ্ত শয্যা ও ওষুধের সংকটের কারণে তারা সঠিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ভুক্তভোগীদের মতে, ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর থেকে যে জরুরি ব্যবস্থার প্রয়োজন ছিল, তা স্থানীয় পর্যায়ে নিশ্চিত করতে পারলে হয়তো শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব হতো। প্রতিদিন যেভাবে নতুন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে, তাতে এই এলাকাটি এখন একটি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ জনপদে পরিণত হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা। পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্বীকার করে মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. শাহিন জানান, রবিবার সকাল পর্যন্ত নতুন করে আরও তিনজন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যার ফলে গত ২৪ ঘণ্টায় মোট সাতজন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্বাস্থ্য কর্মকর্তার তথ্যমতে, বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে তিন থেকে পাঁচজন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে আসছে, যা নির্দেশ করে যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। তিনি আরও জানান, হাসপাতালে রোগীদের চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ও জনবল সংকটের কারণে রোগীদের যথাযথ সেবা প্রদান করা চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে মশক নিধনে ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিচালনার আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে এর কোনো কার্যকর প্রভাব মাঠপর্যায়ে দেখা যাচ্ছে না। স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির কথা বলা হলেও, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করার মতো কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদী কোনো উদ্যোগ এখনো গৃহীত হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এই শিশুর মৃত্যুর ঘটনাটি মোংলার স্বাস্থ্য খাতে বিদ্যমান ভঙ্গুর কাঠামোর একটি বড় সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদি এখনই ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং মশা নিধনে সমন্বিত ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হয়, তবে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা এখন ডেঙ্গু আতঙ্কে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে শ্রমজীবী মানুষের কর্মক্ষমতার ওপর। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু রোধ করতে হলে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন এবং পৌর কর্তৃপক্ষের স্বচ্ছ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। কেবল দায়সারা প্রচারণার মাধ্যমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়, বরং প্রতিটি ওয়ার্ডে নিয়মিত মশক নিধন কর্মসূচি পরিচালনা এবং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ডেঙ্গু শনাক্তকরণ কিট ও প্রয়োজনীয় ওষুধের পর্যাপ্ত মজুদ নিশ্চিত করাই এখন সময়ের প্রধান দাবি।
মহালছড়িতে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের প্রস্তুতি সম্পন্ন, ক্যাম্পেইন ২৮ জুন
বৃহস্পতিবার ( ২৫ জুন ২০২৬) সকাল ১১.৩০ টায় খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন ২০২৬ সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে উপজেলা অ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সভায় উপস্থিত ছিলেন ডাঃ ধনিষ্ঠা চাকমা,উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, মহালছড়ি থানা প্রতিনিধি(এসআই) মোঃ আব্দুল আউয়াল, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা দীপময় তালুকদার, উপজেলা প্রেসক্লাব সভাপতি দীপক সেন,উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার প্রতিনিধি, ইসলামিক ফাউন্ডেশন এর কর্তার প্রতিনিধি সহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক, গণমাধ্যমকর্মী, ধর্মীয় নেতা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। সভায় জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের লক্ষ্য, কার্যক্রম ও গুরুত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বক্তারা বলেন, ভিটামিন ‘এ’ শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, অন্ধত্ব প্রতিরোধ এবং শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই আসছে আগামী ২৮ জুন ২০২৬ রোজ রবিবার সকাল ৮.০০টা হতে বিকেল ৪.০০টা পর্যন্ত সারা দেশের ন্যাায় মহালছড়িতে ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী সকল শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর জন্য অভিভাবকদের সচেতন করতে হবে। সভায় জানানো হয়, জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের আওতায় উপজেলার ১ টি স্থায়ী ও ১২০ টি সাব কেন্দ্র সহ মোট ১২১ টি কেন্দ্রে লাল ৭,৭২০টি ও নীল ১৪০০টি ভিটামিন এ প্লাস ক্যাপসুল এর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে বিভিন্ন কেন্দ্রে শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। এ কার্যক্রম সফল করতে সকলের সহযোগিতা কামনা করা হয়। বক্তারা আরও বলেন, শিশুর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে এবং অপুষ্টিজনিত সমস্যা প্রতিরোধে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এজন্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। সভা শেষে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন ২০২৬ শতভাগ সফল করার লক্ষ্যে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সত্যি কি নিখোঁজ পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্স
রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি সরকারি অ্যাম্বুলেন্স গত দুই বছর ধরে নিখোঁজ রয়েছে। কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণেই এমনটি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
খাবারে ব্যবহৃত সাধারণ প্রিজারভেটিভ উচ্চ রক্তচাপ ও হার্ট অ্যাটাকের কারণ
গবেষণায় দেখা গেছে, এমনকি বিবর্ণতা রোধ করতে ব্যবহৃত তথাকথিত “প্রাকৃতিক” অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রিজারভেটিভ, যেমন সাইট্রিক অ্যাসিড এবং অ্যাসকরবিক অ্যাসিড (যা ভিটামিন সি নামে বহুল পরিচিত), যারা এই উপাদানযুক্ত খাবার বেশি খান তাদের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি ২২% বাড়িয়ে দেয়।
জ্বর হওয়ার সাথে সাথে ডেঙ্গু পরীক্ষার অনুরোধ স্বাস্থ্য অধিদফতরের
রোববার (৫ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা: মঈনুল আহসান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই অনুরোধ জানান।