ছাত্রশিবির
ব্যানার ঘিরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল-শিবিরের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই অভ্যুত্থান উপলক্ষে আয়োজিত একটি প্রদর্শনীতে টানানো ব্যানারকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও হামলার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা স্মারক মাঠে ‘জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ শীর্ষক প্রদর্শনী চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, ‘জুডিসিয়াল কিলিং’ শিরোনামে জামায়াতের পাঁচ নেতা ও বিএনপির এক নেতার ছবি সংবলিত একটি ব্যানার নিয়ে দুই সংগঠনের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। ছাত্রশিবিরের অভিযোগ, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ব্যানারটি সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানালে প্রথমে বাকবিতণ্ডা এবং পরে সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। তাদের দাবি, একপর্যায়ে ছাত্রদলের কর্মীরা শিবির নেতা মেহেদী হাসানসহ কয়েকজনকে মারধর করেন। ঘটনার পর শিবিরের নেতাকর্মীরা প্রদর্শনীস্থলের সামনে অবস্থান নেন। অন্যদিকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে পাল্টাপাল্টি স্লোগান দেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. ফেরদৌস রহমান ঘটনাস্থলে পৌঁছে উভয় পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। এ সময় ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক মাসুদ রানার সঙ্গে প্রক্টরের বাকবিতণ্ডা হয়। পরে ইট নিক্ষেপের ঘটনা ঘটলে শিবিরের নেতাকর্মীরা পাল্টা ধাওয়া দেন এবং ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেখান থেকে সরে যান। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আব্দুর রাকিব বলেন, প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই তারা কর্মসূচির আয়োজন করেছিলেন। একটি ব্যানারকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল কর্মসূচি পণ্ড করার চেষ্টা করেছে এবং তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। ঘটনার জন্য তিনি ছাত্রদলকে দায়ী করেন। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতা মো. ইয়ামিনের দাবি, যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডিত জামায়াত নেতাদের ছবি সম্বলিত ব্যানার সরানোর দাবি জানানো হলে শিবিরের নেতাকর্মীরা হামলা চালান। এতে ছাত্রদলের সহসভাপতি আশিকুর রহমান আহত হন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, একটি ব্যানারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা থেকে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন কাজ করছে এবং উভয় পক্ষের সঙ্গে বসে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টিতে সাতক্ষীরায় ছাত্রশিবিরের বিশাল সাইকেল র্যালী
বিশ্ব মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে মাদকের বিরুদ্ধে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে সাতক্ষীরায় এক বিশাল সাইকেল র্যালী অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৭ জুন) সকাল সাতটায় বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সাতক্ষীরা শহর শাখার উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ মাঠ থেকে শুরু হওয়া এই র্যালীতে শত শত সাধারণ শিক্ষার্থী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। র্যালীটি শহরের পোস্ট অফিস মোড়, নারকেলতলা মোড়, খুলনা রোড মোড়, সার্কিট হাউজ মোড় এবং বাইপাস সড়কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা প্রদক্ষিণ করে পুনরায় সরকারি কলেজ মাঠে এসে শেষ হয়। র্যালী চলাকালে শিক্ষার্থীরা মাদকের বিরুদ্ধে নানা সচেতনতামূলক ও প্রতিরোধমূলক স্লোগান দিয়ে পুরো এলাকা মুখরিত করে তোলেন। সাতক্ষীরা শহর শিবিরের সভাপতি মেহেদী হাসানের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি নুরুন্নবীর পরিচালনায় উক্ত কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতে ইসলামীর অফিস সম্পাদক মাওলানা রুহুল আমিন। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শহর শিবিরের সাবেক সভাপতি আল মামুন, অফিস সম্পাদক আরিফ বিল্লাহ, এইচআরডি সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন, প্রকাশনা সম্পাদক আফজাল হোসেন, মিডিয়া সম্পাদক মাসুদ হোসেন এবং সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ শিবিরের সভাপতি রফিকুল ইসলামসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, কর্মী ও সমর্থকরা। র্যালী শেষে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধান অতিথি মাওলানা রুহুল আমিন তাঁর বক্তব্যে বলেন, মাদকের ভয়াবহতা বর্তমানে সমাজের প্রতিটি স্তরে বিষাক্ত থাবা বসিয়েছে। মাদকের করাল গ্রাসে পরিবারে অশান্তি যেমন বাড়ছে, তেমনি বৃদ্ধি পাচ্ছে অপরাধ ও সামাজিক অবক্ষয়। এই সামাজিক ব্যাধি থেকে তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সমাজ থেকে মাদক নির্মূল করতে তরুণদেরই অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। আর এই লক্ষ্য অর্জনে ইসলামী ছাত্রশিবিরকে তরুণদের মাঝে পবিত্র কোরআন ও হাদিসের জ্ঞান এবং ইসলামের শাশ্বত আদর্শ ছড়িয়ে দেওয়ার কাজকে আরও বেশি গুরুত্বের সাথে পরিচালনা করতে হবে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে তিনি সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। সভাপতির বক্তব্যে শহর শিবিরের সভাপতি মেহেদী হাসান বলেন, তরুণ সমাজকে মাদকের মরণনেশা ও এর ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতন করার পাশাপাশি একটি সুস্থ, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও মাদকমুক্ত সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্যেই আজকের এই সাইকেল র্যালির আয়োজন করা হয়েছে। মাদকের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের অবস্থান সবসময় আপসহীন ও পরিষ্কার। আগামী দিনেও তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে এবং জনসচেতনতা তৈরি করতে ছাত্রশিবিরের এমন ইতিবাচক ও সামাজিক সচেতনতামূলক কর্মসূচি নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।
ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ, কার ইশারায়? কারা তরুণদের ভয় পায়?
ভোটকেন্দ্রে বিএনসিসি প্রত্যাহারের পর এবার মোবাইল নিষিদ্ধের ষড়যন্ত্র বাস্তবায়িত হলো। কার ইশারায়, কার প্রভাবে নির্বাচন কমিশন এই সিদ্ধান্ত নিলো?