ঝিনাইদহ
সাবেক পুলিশ কর্মকর্তাকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা
কালীগঞ্জ উপজেলার আড়পাড়ায় মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করায় মো. আনোয়ার হোসেন নামের এক অবসরপ্রাপ্ত সহকারী পুলিশ সুপারকে (এএসপি) দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করেছে স্থানীয় চিহ্নিত মাদক কারবারিরা। বৃহস্পতিবার (১৯ জুন)রাত সাড়ে ১২টার দিকে আড়পাড়া এলাকায় এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে কালীগঞ্জের আড়পাড়া এলাকায় কতিপয় চিহ্নিত অপরাধী ও মাদক ব্যবসায়ী এলাকায় মাদক বিক্রি ও সেবনের স্বর্গরাজ্য গড়ে তুলেছে। এলাকার সামাজিক পরিবেশ রক্ষার্থে এবং যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে অবসরপ্রাপ্ত এএসপি আনোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন ধরে এর প্রতিবাদ করে আসছিলেন। রাত সাড়ে ১২টার দিকে মাদক কারবারিদের একটি দল প্রকাশ্যে অপকর্ম করার সময় তিনি পুনরায় বাধা দিলে, সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা রামদা, লাঠিসোঁটাসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। সন্ত্রাসীরা তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি কোপাতে ও পেটাতে থাকে। এতে তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক জখম হয় এবং তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তার চিৎকার ও আশপাশের লোকজনের ছুটে আসতে দেখে হামলাকারী মাদক ব্যবসায়ীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে অবিলম্বে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান, যেখানে বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনার পর থেকে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও সাধারণ মানুষের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। একজন সাবেক উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা যদি মাদক নিয়ে প্রতিবাদ করে নিজ এলাকায় এভাবে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়—এমন প্রশ্ন তুলছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ঘটনার খবর পেয়েই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। একজন সাবেক পুলিশ সুপারের ওপর হামলার ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। এই বর্বরোচিত হামলার সাথে জড়িত অপরাধী ও মাদক কারবারিদের চিহ্নিত করে দ্রুততম সময়ে গ্রেফতারের জন্য পুলিশের একাধিক টিম অভিযানে নেমেছে। অপরাধী যেই হোক না কেন, তাকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এলাকাবাসী ও সচেতন মহল এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে চিহ্নিত সকল মাদক ব্যবসায়ী ও হামলাকারী সন্ত্রাসীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
কালীগঞ্জে অবসর জনিত বিদায় নিলেন নূর-আলী কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক রিতা দাস
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের শহীদ নূর আলী কলেজে বাংলা বিভাগের প্রভাষক রিতা দাসের অবসরজনিত বিদায়ে এক আবেগঘন কালীগঞ্জে অবসর জনিত বিদায় নিলেন নূর-আলী কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক রিতা দাপরিবেশের সৃষ্টি হয়। বুধবার (১৭ জুন ২০২৬)ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সহকারী অধ্যাপক মো. আব্দুর রহমান সভাপতিত্বে কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা অশ্রুসিক্ত নয়নে তাঁকে বিদায় জানান।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি ঝিনাইদহ-৪ আসনের বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক, সাবেক প্যানেল মেয়র ও বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হামিদুল ইসলাম হামিদ। সভাপতিত্ব করেন, অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গভর্নিং বডির সদস্যরা প্রিয় শিক্ষকের কর্মময় জীবন ও অবদানের কথা স্মরণ করেন।বক্তারা বলেন, রিতা দাস ছিলেন শিক্ষার্থীদের কাছে আলোকবর্তিকা এবং সহকর্মীদের কাছে একজন স্নেহশীল ও শ্রদ্ধেয় শিক্ষক। তাঁর পাঠদান ও আন্তরিকতা কলেজের শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।বিদায়ী বক্তব্যে রিতা দাস আবেগাপ্লুত হয়ে হয়ে পড়েন কলেজের কর্মময় জীবনের স্মৃতি বিজড়িত ঘটনা বর্ণনা করে। কলেজের অধ্যক্ষ সহ সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং সবার সাফল্য কামনা করেন। পরে তাঁকে সম্মাননা স্মারক ও উপহার প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের ভালোবাসায় সিক্ত হয়।, উক্ত অনুষ্ঠান সঞ্জলনা করেন জীব বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রৈশন কবির রঞ্জু।
ঝিনাইদহে তিন দিন ব্যাপি উৎসব শুরু
করবো মোরা ফল চাষ, সংরক্ষণ করব বারো মাস’ এ শ্লোগানে ঝিনাইদহে শুরু হয়েছে ৩ দিন ব্যাপী ফল মেলা| বৃহস্পতিবার( ১৮ জুন) সকালে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কার্যালয়ে এ মেলার উদ্বোধন করা হয়| অনুষ্ঠানে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ মজিদ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কামরুজ্জামান, সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নূর-এ নবী, ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সভাপতি আসিফ ইকবাল মাখনসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন|কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে এ মেলায় ৫ টি স্টল প্রদর্শণ করা হয়েছে| প্রায় অর্ধশত প্রকার দেশীয় ফল ও ফল আবাদের উন্নত প্রযুক্তি প্রদর্শন করা হয়েছে মেলায়|আগামী ২০ জুন শেষ হবে এ মেলা| দেশীয় ফলের উৎপাদন ও ভোক্তা সচেতনতা বাড়াতে এ ধরণের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন আয়োজকরা|