হাম: কেন হয়, লক্ষণ ও করনীয়

বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ০২:৫৬ পিএম

ছবি সংগৃহীত

 

হাম একটি ভাইরাসজনিত ছোঁয়াচে রোগ। ইংরেজীতে 'Measles' নামে পরিচিত। German measles - ও এক ধরনের হাম, যাকে আবার Rubella বলা হয়ে থাকে। সাধারণত হাম ভাইরাসজনিত রোগ। সাধারণত শিশুরাই হামে আক্রান্ত হয়। আবার গর্ভাবস্থার মায়ের হাম হলে গর্ভস্থ ভূনের মারাত্মক ক্ষতি, এমনকি গর্ভপাত হতে পারে। এছাড়া রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পেলে বড়দেরও হাম ও তদসংক্রান্ত হয়। এসব কারণে বর্তমানে MMR Vaccine দেয়া হচ্ছে যা হাম সহ ভাইরাস জনিত তিনটি অসুখের টিকা।

 

হাম কিভাবে বিস্তার লাভ করে:


হাঁচি-কাশির মাধ্যমে হামের জীবাণু ছড়িয়ে থাকে, একজন আক্রান্ত ব্যাক্তির নিকট হতে অন্যদের মাঝে। শিশুর হাম হলে তাই স্কুলে যাওয়া ও অন্যান্য শিশুর সংস্পর্শে আসা রোধ করতে হবে। এটি একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ। সুতরাং, বিশেষ করে গর্ভবর্তী মানুষ ও যাদের রোগ প্রতিরোধ কমতা কোনও কারণে দূর্বল হয়েছে, সবাইকেই সতর্কতার সাথে হাম আক্রান্ত ব্যাক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে হবে।

 

হামের লক্ষণসমূহ:


শিশুদের হাম হলে সুনির্দিষ্ট কিছু লক্ষণের মাধ্যমে তা বোঝা যায়। শুরুতে জ্বর, হাঁচি, সর্দিভাব, শুকনো কাশি দেখা দেয়। শিশুর খাদ্যাভাসে পরিবর্তন আসতে পারে। এরপর মুখের ভিতওে বিশেষ করে গালের ভিতর দিকে লালচে হয়ে যায় এবং লালভাবের মাঝে সাদা দানাজাতীয় ক্ষত দেখা যায়। এটি হামের সুনির্দিষ্ট প্রাথমিক লক্ষন যাকে ইংরেজীতে Koplik's spot বলা হরে থাকে। এরপর শিশুর দেহে হামের বৈশিষ্ট পূর্ণ লালচে দাগ বা Morbilliform rash হয়। এই দী লালচে দাগ মাথা থেকে শুরু হয়ে শরীরের নিচের দিকে ছাড়িয়ে পড়ে । ২-৩দিনের মাঝে পারে পৌছে যায়। এই Morbillivirus হাম হওয়ার প্রধান কারণ।

 

হাম হলে করনীয়:


ভাইরাসজনিত বেশ কিছু অসুস্থ্যতা আছে যা Self-limiting অর্থাৎ একটা সময় পরে নিজে থেকেই ভালো হয়ে যায়। হামও এই জাতীয় অসুখ। তবে এর সাথে অপুষ্টি যুক্ত হলে হাম অবস্থায় বা হাম পরবর্তীতে নিউমোনিয়া বা অন্যান্য জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যেনো দুর্বল হয়ে না পড়ে সেজন্য হাম আক্রান্ত শিশু বা যেকোন ব্যাক্তির যথাযথ পুষ্টি নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের সাধারণ খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি পর্যাপ্ত পরিমানে আমিষ, তাজা শাক-সব্জী ও ফলমূল গ্রহন করতে হবে। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী জ্বর ও হাঁচি-কাশির জন্য ডাক্তারের ঔষধ সেবন করতে হবে। প্রচুর পরিমাণে পানি ও তরল খাবার খেতে হবে। ডাক্তারের চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত কোনও অ্যান্টিবায়েটিক সেবন করা যাবে না। সময়মত MMR টিকা নিতে হবে।

লেখক: ডা. মো. ফাহিম ফয়সাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, গোদাগাড়ী, রাজশাহী।

যোগাযোগের ঠিকানা:

বাংলাদেশ বার্তা টুডে

৫৬, চানখারপুল লেন, নাজিমুদ্দিন রোড, বংশাল, ঢাকা-১১০০

ইমেইল: info@bangladeshbartatoday.com