পুলিশ
পুলিশের কাছ থেকে আ/ট/ক আ/সা/মীকে ছেড়ে নিয়ে গেলো এলাকাবাসী
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় মাদক কারবারে জড়িত এক ব্যক্তিকে আটক করতে গিয়ে স্থানীয় জনতার একাংশের তোপের মুখে পড়েছে পুলিশ। একপর্যায়ে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে অবরুদ্ধ পুলিশ সদস্যরা আটক ব্যক্তিকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে উপজেলার টংভাংগা ইউনিয়নের ভবানীপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানান, হাতীবান্ধা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রিমন ও তুহীন, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) লুৎফর হাকিমসহ হাতীবান্ধা থানা পুলিশের একটি দল ভবানীপুর এলাকার মৃত জসীম উদ্দিনের ছেলে মাদক কারবারি হামিদুল ইসলামকে (৩৭) আটক করে। আটক হামিদুলের বিরুদ্ধে পূর্বের মাদক মামলা রয়েছে। আটকের পর হামিদুলকে নিয়ে আসার সময় তার পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় কিছু লোক জড়ো হয়ে পুলিশের ওপর চড়াও হয় এবং প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। খবর পেয়ে থানা থেকে অতিরিক্ত ফোর্স ঘটনাস্থলে রওনা দিলেও, তার আগেই পরিস্থিতি চরম অবনতি রূপ নেয়। তোপের মুখে পড়ে একপর্যায়ে পুলিশ হামিদুলকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রমজান আলী বলেন, পুলিশের হাতে আটক হামিদুলের বিরুদ্ধে আগের মাদক মামলা রয়েছে। শনিবার তাকে ধরতে গিয়ে পুলিশ বাধার সম্মুখীন হয়েছে। যারা মব সৃষ্টি করেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
হরিনাকুন্ডুে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা মাদক নির্মূলে ‘অপারেশন চলবে’
হরিনাকুন্ডু উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় মাদক নির্মূলে অভিযান অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় বক্তারা বলেন,প্রশাসনকে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রদীপ্ত রায় দীপন। সভায় থানার ওসি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ইউপি চেয়ারম্যান, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় মাদক, বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং ও মোবাইল গেম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় এছাড়াও মাদক প্রসঙ্গে বিশেষ সিদ্ধান্ত হয়—উপজেলার হাট-বাজার, স্কুল-কলেজ ও এলাকায় যৌথ অভিযান জোরদার করা হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন, মাদক নির্মূলে অপারেশন চলবে। এখানে কোনো ছাড় নেই। তবে অভিযান শুধু কাগজে-কলমে চললে হবে না, প্রশাসনকে মাঠ পর্যায়ে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। জনপ্রতিনিধি ও সমাজের সবার সহযোগিতা লাগবে। সভায় স্কুল-কলেজের সামনে ভ্রাম্যমাণ দোকান নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সবার সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিয়ে সভার সমাপ্তি ঘটে।
কালীগঞ্জে ১৯৫ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক
কালীগঞ্জ থানা পুলিশের মাদকবিরোধী বি শেষ অভিযানে শহরের কলেজ পাড়া এলাকা থেকে ১৯৫ পিস নিষিদ্ধ ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এক মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত রাতে কালীগঞ্জ থানা পুলিশের একটি চৌকস দল কলেজ পাড়া এলাকায় এই ঝটিকা অভিযান চালায়। এ সময় তল্লাশি চালিয়ে উক্ত মাদকদ্রব্যসহ তাকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়। এলাকাবাসীর দাবি, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের এমন কঠোর অবস্থান ও নিয়মিত অভিযান যেন চলমান থাকে, যাতে তরুণ সমাজকে এই মরণনেশা থেকে রক্ষা করা যায়।
সাবেক পুলিশ কর্মকর্তাকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা
কালীগঞ্জ উপজেলার আড়পাড়ায় মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করায় মো. আনোয়ার হোসেন নামের এক অবসরপ্রাপ্ত সহকারী পুলিশ সুপারকে (এএসপি) দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করেছে স্থানীয় চিহ্নিত মাদক কারবারিরা। বৃহস্পতিবার (১৯ জুন)রাত সাড়ে ১২টার দিকে আড়পাড়া এলাকায় এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে কালীগঞ্জের আড়পাড়া এলাকায় কতিপয় চিহ্নিত অপরাধী ও মাদক ব্যবসায়ী এলাকায় মাদক বিক্রি ও সেবনের স্বর্গরাজ্য গড়ে তুলেছে। এলাকার সামাজিক পরিবেশ রক্ষার্থে এবং যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে অবসরপ্রাপ্ত এএসপি আনোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন ধরে এর প্রতিবাদ করে আসছিলেন। রাত সাড়ে ১২টার দিকে মাদক কারবারিদের একটি দল প্রকাশ্যে অপকর্ম করার সময় তিনি পুনরায় বাধা দিলে, সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা রামদা, লাঠিসোঁটাসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। সন্ত্রাসীরা তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি কোপাতে ও পেটাতে থাকে। এতে তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক জখম হয় এবং তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তার চিৎকার ও আশপাশের লোকজনের ছুটে আসতে দেখে হামলাকারী মাদক ব্যবসায়ীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে অবিলম্বে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান, যেখানে বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনার পর থেকে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও সাধারণ মানুষের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। একজন সাবেক উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা যদি মাদক নিয়ে প্রতিবাদ করে নিজ এলাকায় এভাবে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়—এমন প্রশ্ন তুলছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ঘটনার খবর পেয়েই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। একজন সাবেক পুলিশ সুপারের ওপর হামলার ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। এই বর্বরোচিত হামলার সাথে জড়িত অপরাধী ও মাদক কারবারিদের চিহ্নিত করে দ্রুততম সময়ে গ্রেফতারের জন্য পুলিশের একাধিক টিম অভিযানে নেমেছে। অপরাধী যেই হোক না কেন, তাকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এলাকাবাসী ও সচেতন মহল এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে চিহ্নিত সকল মাদক ব্যবসায়ী ও হামলাকারী সন্ত্রাসীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
বগুড়ার শিবগঞ্জে পুলিশের উপর হামলা করে হাতকড়াসহ আ.লীগ নেতা রাজুকে ছিনিয়ে নিলেন স্বজনেরা
বগুড়ার শিবগঞ্জে একাধিক মামলার আসামি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রিজ্জাকুল ইসলাম রাজুকে পুলিশের কাছ থেকে হাতকড়াসহ ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।