জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন: সানায়ে তাকাইচি
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৫, ০১:৫৪ পিএম
জাপানে রাজনৈতিক অচলাবস্থার অবসান ঘটাতে নতুন জোট সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) এবং জাপান ইনোভেশন পার্টি (জেআইপি)। এই জোট বাস্তবায়িত হলে দেশটির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন নারী, সানায়ে তাকাইচি, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
বার্তাসংস্থা কিয়োদো নিউজ জানায়, এলডিপির নতুন নেতা সানায়ে তাকাইচি এবং জেআইপি প্রধান হিরোফুমি ইয়োশিমুরা সোমবার (২০ অক্টোবর) টোকিওতে একটি আনুষ্ঠানিক বৈঠকে মিলিত হবেন। বৈঠক শেষে দুই দল জোট সরকারের বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষর করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
রোববার ওসাকায় জেআইপি নির্বাহী বোর্ডের বৈঠকে এ বিষয়ে প্রাথমিক অনুমোদন দেওয়ার কথা রয়েছে। এরপর সোমবার পার্লামেন্ট সদস্যদের পূর্ণাঙ্গ সভায় আনুষ্ঠানিক অনুমোদন মিললে জোট চুক্তি কার্যকর হবে।
চলতি মাসের শুরুতে সানায়ে তাকাইচি এলডিপির নতুন নেতা নির্বাচিত হন। তিনি জাপানের রাজনীতিতে একজন রক্ষণশীল ও দৃঢ় অবস্থানের নেতা হিসেবে পরিচিত।
তাকাইচি দীর্ঘদিন ধরে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন এবং তার “শক্তিশালী জাপান” নীতির ধারাবাহিকতায় কাজ করছেন।
তবে এলডিপির দীর্ঘদিনের মিত্র দল কোমেইতো ২৬ বছর পর জোট ত্যাগ করায় সরকার পতন ঘটে। এরপর থেকেই তাকাইচি নতুন রাজনৈতিক জোট গঠনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, যাতে এলডিপি পুনরায় ক্ষমতায় ফিরে স্থিতিশীলতা আনতে পারে।
যদি এলডিপি ও জেআইপি আনুষ্ঠানিকভাবে জোট বাঁধে, তবে তারা পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতার খুব কাছাকাছি পৌঁছে যাবে।
তবে বর্তমানে দুই দল মিলে এখনও দুটি আসনের ঘাটতি রয়েছে। তাই তাকাইচির দল স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের সঙ্গে আলোচনায় রয়েছে—যাতে তাদের সমর্থন পেলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করা যায়।
সব কিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী চললে আগামী মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) তাকাইচি পার্লামেন্টে ভোটের মাধ্যমে জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হবেন।
তাকাইচির প্রধানমন্ত্রী হওয়া জাপানের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও রাজনৈতিক মাইলফলক হবে। দেশটি এখনো পুরুষপ্রধান রাজনৈতিক সংস্কৃতির অধীনে রয়েছে, যেখানে নারীরা উচ্চপর্যায়ের নেতৃত্বে তুলনামূলকভাবে কম সুযোগ পান।
তাকাইচি বরাবরই জাতীয় প্রতিরক্ষা জোরদার, সাংবিধানিক পরিবর্তন এবং চীনের প্রতি কঠোর অবস্থানের পক্ষে মত দিয়েছেন। তার নেতৃত্বে জাপান আরও দৃঢ় পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
সূত্র: কিয়োদো নিউজ, আল জাজিরা।