নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭ দিনব্যাপী ‘৪র্থ আন্তর্জাতিক নাট্যোৎসব ২০২৬’ শুরু
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৫ এএম
সাত দিনের জন্য এক নান্দনিক শিল্পযজ্ঞে পরিণত হয়েছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের আয়োজনে শুরু হয়েছে সাত দিনব্যাপী ‘৪র্থ আন্তর্জাতিক নাট্যোৎসব ২০২৬’। গত ১২ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এই এই বর্ণিল আয়োজন চলবে ১৮ জুলাই পর্যন্ত। এবারের উৎসবে বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের একটি নাট্যদল অংশ নিচ্ছে।
নতুন কলা ভবনের নীচ তলায় বিভাগীয় মিলনায়তনে আয়োজিত এই উৎসবের উদ্বোধনী আয়োজনে শিল্পকলার প্রতি এক গভীর ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। উৎসবের প্রধান অতিথি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন নাট্যকলাকে একটি শক্তিশালী সংস্কৃতি হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, ‘নাট্যকলা ও পরিবেশনা কেবল বিনোদন নয়, এটি একটি শিল্প যা দেশ ও বিদেশের মঞ্চে আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতিকে অনন্য উচ্চতায় তুলে ধরতে সক্ষম।’
উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ছিল প্রখ্যাত নাট্যব্যক্তিত্ব আবুল হায়াতকে ‘নাট্যজন সম্মাননা’ প্রদান। যখন উপাচার্য তার হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দিচ্ছিলেন, তখন উপস্থিত দর্শকের করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো মিলনায়তন। আবেগাপ্লুত আবুল হায়াত কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘সম্মাননা কাজের স্বীকৃতির পাশাপাশি দায়বদ্ধতাও বাড়িয়ে দেয়।’ নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে উপাচার্য বলেন, ‘আমি চাই এই বিভাগের শিক্ষার্থীরা যেন একেকজন আবুল হায়াত হিসেবে গড়ে ওঠে।’
নাট্যোৎসব মানেই নতুন নতুন গল্পের সাথে পরিচয়। এবারের উৎসবে মঞ্চস্থ হচ্ছে সাতটি ভিন্ন ধারার নাটক। প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টায় জিয়া হায়দার ল্যাবে দর্শক দেখতে পাচ্ছেন দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ধ্রুপদী ও সমসাময়িক নাটকের মঞ্চায়ন।
উৎসবে মঞ্চায়িত নাটকের তালিকা ও নির্দেশকবৃন্দ:
ভাষা অথবা প্রেমের রাজনৈতিক বিপর্যয়: (পরিকল্পনা ও নির্দেশনায়: সনজিত কুমার দে)
রক্তবীজ বধ: (পরিকল্পনা ও নির্দেশনায়: জাফরিন হক তরু)
ইনডিপেন্ডেন্স: (পরিকল্পনা ও নির্দেশনায়: সামিয়া সুলতানা চারু)
একশ বস্তা চাল: (পরিকল্পনা ও নির্দেশনায়: মো. শাহিন আলম)
দেওয়ান গাজীর কিসসা: (পরিকল্পনা ও নির্দেশনায়: মো. শাকিল আহমেদ)
ক্রীতদাসের হাসি: (পরিকল্পনা ও নির্দেশনায়: হাবিবা আক্তার পিংকি)
পঞ্চমীর চাঁদ: (পরিকল্পনা ও নির্দেশনায়: রাজা দে)
নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার অংশ হিসেবে আয়োজিত এই উৎসবটি নতুনদের দক্ষতা যাচাইয়ের বড় একটি ক্ষেত্র। অভিনয়ের সূক্ষ্ম কৌশল, মঞ্চ সজ্জা আর আলোর খেলায় শিক্ষার্থীরা নিজেদের প্রস্তুতির জানান দিচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. ইস্রাফীল, স্থানীয় কলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের প্রফেসর ড. আরিফ হায়দারসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
আগামী ১৮ জুলাই পর্যন্ত এই নাট্যোৎসবের প্রতিটি সন্ধ্যা যেন হয়ে উঠবে শিল্পমনাদের জন্য এক একটি নতুন অভিজ্ঞতার আধার। ত্রিশালের বুক চিরে বয়ে চলা এই নাট্যধারা সংস্কৃতি অঙ্গনে নতুন প্রাণ সঞ্চার করবে - এমনটাই প্রত্যাশা আয়োজক ও দর্শকমহলের।